জুলাই আন্দোলনে শহীদ ৮০৪ পরিবারের জন্য রাজধানীর মিরপুরে স্থায়ী আবাসন নির্মাণে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শোকাহত এসব পরিবারকে নিরাপদ ও মানসম্মত বসবাসের সুযোগ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যেই ‘মিরপুরের ১৪ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জমিতে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শিরোনামে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ৭৬১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিলে চলতি বছর থেকেই কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। তবে প্রস্তাবনায় বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় দ্বিতীয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা থেকে ডিপিপি ফেরত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদনের বদলে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ফেরত দেওয়া হয়। কমিশন তখন বেশ কিছু সংশোধনী পরামর্শ দেয়। কিন্তু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেগুলো পুরোপুরি মানেনি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো পিইসি সভা করে আবারও সংশোধনের জন্য ডিপিপি ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গৃহায়ন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মিরপুর হাউজিং স্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৫.৮ একর নিজস্ব জমিতে মোট ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আকার হবে ১,৩৫৫ বর্গফুট। প্রকল্পের আওতায় কমন বেজমেন্টসহ ৬টি ১৪ তলা ভবনে ৬০০টি এবং ১২টি ১০ তলা ভবনে ২০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। উচ্চতলা ভবনগুলোতে বেজমেন্ট ও নিচতলায় পার্কিং এবং উপরতলায় আবাসিক ফ্ল্যাট থাকবে। সব ভবন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিজাইনে ভূমিকম্প সহনশীলভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পিইসি সভায় জানানো হয়, নতুন ডিপিপিতে প্রকল্প পরিচালকের বেতন, যানবাহন ভাড়া, অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণসহ নতুন কিছু খাত যুক্ত করা হয়েছে, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রকল্প পরিচালক ও যানবাহন ভাড়ার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ, পিআইসি ও পিএসসি সভার সম্মানির খরচ অন্তর্ভুক্ত না থাকা, নকশা তৈরির খরচে অস্পষ্টতা এবং সেবা ক্রয়ের প্যাকেজ উল্লেখ না করার বিষয়েও আপত্তি তোলে কমিশন।
এছাড়া ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি হিসেবে ৯ কোটি ৩২ লাখ এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি হিসেবে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ধরা হলেও তা বেশি মনে হওয়ায় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রস্তাবিত খাতভিত্তিক ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে—
-
ভবন নির্মাণ: ৬৬২ কোটি ৬ লাখ টাকা
-
আরসিসি সীমানা প্রাচীর: ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা
-
গেট: ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা
-
অভ্যন্তরীণ রাস্তা: ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা
-
ড্রেন নির্মাণ: ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
-
বেড লিফট: ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা
-
প্যাসেঞ্জার লিফট: ১০ কোটি ২ লাখ টাকা
-
সাবস্টেশন (১,০০০ কেভিএ): ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা
-
জেনারেটর (১৫০ কেভিএ): ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা
-
ইলেকট্রিক পাম্প (২০ এইচপি): ৫৪ লাখ টাকা
-
সোলার সিস্টেম: ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা
-
ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম: ১৫ কোটি টাকা
-
ইন্টারকম: ৯০ লাখ টাকা
-
বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা: ৯০ লাখ টাকা
-
সিসি ক্যামেরা সিস্টেম: ৩ কোটি টাকা
-
অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়: ২ কোটি টাকা
পিইসি সভা এসব ব্যয় আরও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।



