শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর জানাজা ও দাফনকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকা। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) জুমার নামাজের পর সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিকমিয়া এভিনিউ ও দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
দাফনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শহীদের পরিবারের সদস্যরা, নিকটাত্মীয়, সহযোদ্ধা, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। শোকাবহ পরিবেশে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি উপস্থিত সকলের চোখে পানি এনে দেয়।
জানাজা ও দাফন ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। ‘খুনিদের বিচার চাই’, ‘শহীদ ওসমান হাদী অমর থাকবেন’, ‘ন্যায়ের পক্ষে জীবন দেওয়া কখনো বৃথা যায় না’—এমন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। অনেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জানাজার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন এক সাহসী কণ্ঠ। তিনি সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।
জানাজা নামাজে ইমাম বলেন, “যিনি সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে শহীদের মর্যাদা দান করেন। শরীফ ওসমান হাদী তার আদর্শের কারণে আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন।”
জানাজা শেষে যখন মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দাফনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়, তখন পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে শোক আর কান্নায়। দাফনের সময় অসংখ্য মানুষ কবরস্থানে নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার মুহূর্তে উপস্থিত জনতার মধ্যে আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
দাফন শেষে বিভিন্ন নাগরিক প্রতিনিধি ও সহযোদ্ধারা বলেন, “এই মৃত্যু কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। যতদিন না খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।” তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও মানুষের কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি—ন্যায়বিচার।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর জানাজা ও দাফন আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ কখনো একা থাকেন না। মৃত্যুর পরও তিনি লাখো মানুষের ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধায় বিদায় নিয়েছেন। তার আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা শহীদ শরীফ ওসমান হাদীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তার পরিবারকে এই গভীর শোক সহ্য করার শক্তি দিন। আমিন।



