সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করেছে, যেখানে জোট থাকলেও ভোট দিতে হবে প্রতিটি দলের নিজস্ব প্রতীকে। নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীক অনুযায়ী ভোট দিতে হবে।
এছাড়াও অধ্যাদেশে কয়েকটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে আছে: আদালত-ঘোষিত পলাতক আসামিকে নির্বাচনে অযোগ্য করা; সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা; আংশিক ‘না’ ভোটের বিধান; প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকায় বৃদ্ধি; এবং ভোট বাতিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
গত নভেম্বর ৩, ২০২৫ইং, আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর আগে কোনো দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে জোটের অন্য দলের প্রতীক নেওয়ার সুযোগ পেত। কিন্তু এবার জোট থাকলেও দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিধানই চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগে ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএনপি তখনই জোট থাকলেও দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিধানে আপত্তি জানিয়েছিল এবং লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে কিছু ছোট দলও অস্বস্তি প্রকাশ করেছিল। এরপর বিষয়টি বাদ না দিয়ে অধ্যাদেশে রাখা হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরপিওতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন না, সেখানে ‘না’ ভোটের সুযোগ থাকবে। সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, আর তাদের জন্য আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হবে না। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সব বিধান আরপিও থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার নতুন বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে যে কোনো পোস্টার ছাপানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এসবের বাইরে আরও কিছু ছোটখাটো সংশোধনীও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।



