ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিকৃত ছবি প্রকাশ করায় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুক বাংলাদেশে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেসবুক বন্ধ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ মন্ত্রী এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের আপত্তিকর, বিকৃত এবং ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত হয়। ফেসবুকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আপত্তিকর এসব ছবি প্রকাশের অভিযোগে শুক্রবার রাতে পুরান ঢাকার ওয়ারীর র্যাংকিং স্ট্রিট এলাকা থেকে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি দল মাহাবুব
আলম রডিন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।
এই সাইটটি বন্ধ করা হলেও সীমিত পর্যায়ে ফেসবুক ব্যবহার অব্যাহত আছে। জানা গেছে, ভি-স্যাট প্রযুক্তির মাধ্যমে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন তারা ফেসবুক ওপেন করতে পারছেন। ভি-স্যাট সুবিধা যাদের নেই তারা এই জনপ্রিয় সাইটটিতে ঢুকতে পারছেন না।
জানা গেছে, গত তিন দিন থেকে ফেসবুকে এসব ব্যঙ্গাত্মক ও আপত্তিকর ছবি প্রকাশ বন্ধ করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়েছে বিটিআরসি। দেশের দুটি ইন্টারনেট গেটওয়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এবং ম্যঙ্গো টেলিকমিউনিকেশন্সের সহায়তাও চায় তারা। সাবলিংকে এসব ছবি পোস্ট করার কারণে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে জানায় এ দুটি প্রতিষ্ঠান। সে কারণে উচ্চ প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতে বিদেশি বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে। এর আগ পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
এদিকে গত কয়েক দিন থেকে ফেসবুক বন্ধ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছিল। এর আগে গত ২০ এপ্রিল ফেসবুকে মুহম্মদ (সাঃ)-এর কার্টুনও প্রকাশ করা হয়। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কার্টুন প্রকাশের কারণে কয়েক দিন আগে পাকিস্তানেও ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৪০ কোটি লোক বর্তমানে ফেসবুকে তাদের অ্যাকাউন্ট খুলেছেন।
এর আগে গত বছর বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে একটি আপত্তিকর অডিও প্রকাশের দায়ে 'ইউটিউব'সহ আরও ছয়টি সাইট বন্ধ করে দেয় সরকার।
গতকাল বিকেলে র্যাব সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ সোহায়েল জানান, আটক রডিনকে আইটি প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ একজন বিকৃত রুচির মানুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে সে ফেসবুকে একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আপত্তিকর, বিকৃত ও ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ করে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি প্রকাশ করার পর র্যাব সদর দফতরের কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমআইএস উইং এবং র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং-এর সমন্বয়ে গঠিত অ্যান্টি সাইবার ক্রাইম টিম রডিনকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। ৩ দিন পর রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে রডিনকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রডিন ব্রিগেডিয়ার মাহাদী ওরফে সিপাহি মাহাদী ওরফে ইমাম হোসেন ওরফে রডিন আল মোহাম্মদ আল মাহাদী ওরফে জুনাইরা খোন্দকার জিহানসহ একাধিক নাম ব্যবহার করে। তার দুটি পাসপোর্ট রয়েছে। |