ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হলে সরকারকে শিবিরের ১ লাখ কর্মীর প্রাণ কেড়ে নিতে হবে। শিবিরের ১ লাখ কর্মীর প্রাণ গেলে আওয়ামী লীগেরও ১ লাখ কর্মীকে প্রাণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে হুমকি দিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম। গতকাল রাজধানীর বড় মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী
উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় রেজাউল করিম এ হুমকি দেন। ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। গত বছরের ১৪ মার্চ ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে শরিফুজ্জামান নোমানী নিহত হন।
শিবির সভাপতি আওয়ামী লীগের লাখো কর্মীর প্রাণ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সকলকে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেন মাওলানা নিজামী। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাথা ঠাণ্ডা রাখো। সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গনকে শান্ত রাখো। এরপরও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সবুর করতে হবে। মাওলানা নিজামী বলেন, নোমানী হত্যার বদলা আমরা নেব। তবে আমাদের প্রতিশোধ হত্যার বদলে হত্যা বা খুনের বদলে খুন নয়।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করবে এমন কোনো শক্তি বাংলাদেশে নেই। শিবিরের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন যত বাড়বে, রাজপথের আন্দোলন ততই বাড়বে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ সেলিম উদ্দিন, শিবিরের দফতর সম্পাদক নূর মোহাম্মদ ম ল, প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, অর্থ সম্পাদক সোহেল খান প্রমুখ।
ধৈর্যেরও সীমা আছে : মুজাহিদ
এদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেছেন, ধৈর্য ধারণেরও সীমা আছে। সাংবিধানিক রাজনীতি চর্চা ও গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার যদি জামায়াতের দুর্বলতা বলে মনে করে তাহলে বড় রকমের ভুল করছে। জামায়াতের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় গণবিস্ফোরণ হবে। গতকাল বিকেলে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত ঘোষিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাহিদ সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আনন্দমোহন কলেজ ও ইডেন কলেজে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি জায়গাতেই ধর্ষকের ভূমিকায় ছাত্রলীগের নেতারা।
মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম প্রমুখ। |